বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের নিয়ে ভয়াবহ খেলায় নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র—অভিযোগ উঠেছে বুয়েটের ভেতরে সক্রিয় বিদেশি প্রভাবিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে
ঢাকা, ২১ অক্টোবর ২০২৫:
রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আজ রাতে যেন এক অঘোষিত জাগরণের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শ্রীশান্ত গংয়ের চক্রান্তের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা বুয়েট’ শিরোনামে একাধিক পোস্ট ঘুরছে। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের একাংশের ক্ষোভ ও প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে।
শায়েখ মুক্তার আহমেদের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, “শ্রীশান্ত একা নয়। ও একটা টিমের সদস্য। ওর টিম বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের নিয়ে ভয়াবহ খেলায় নেমেছে। অশান্ত বাংলাদেশ ওদের টার্গেট।”
এই বক্তব্য ঘিরে শিক্ষাঙ্গনে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
চক্রান্তের ইঙ্গিত ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্ট, নারীদের মর্যাদা নিয়ে কটূ মন্তব্য ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে একটি ‘সামাজিক বিভাজন’ সৃষ্টির প্রচেষ্টা, যার লক্ষ্য শিক্ষাঙ্গনকে উত্তপ্ত করে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতায় আঘাত করা।
একজন সাবেক বুয়েট শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
বুয়েটে যেভাবে কিছু ছাত্রগোষ্ঠী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে খেলছে, তা একক ব্যক্তির কাজ নয়। এর পেছনে নিশ্চয়ই একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক আছে।”
‘শ্রীশান্ত গং’ আসলে কারা?
‘শ্রীশান্ত গং’ নামটি এখন আলোচনায়। বুয়েটের একাধিক সূত্র দাবি করছে, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা সামাজিক মাধ্যমে বিভাজনমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এদের সঙ্গে বিদেশি অর্থায়ন বা এনজিও প্রভাবিত চক্রের যোগাযোগ থাকতে পারে।
তবে বিষয়টি এখনো প্রমাণিত নয়। এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।
নারীকে টার্গেট করার আশঙ্কা
শায়েখ মুক্তার আহমেদের অভিযোগের মূল ফোকাস “বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের নিয়ে ভয়াবহ খেলা।”
এর অর্থ কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে নারীর পোশাক, স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এই ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করাই হতে পারে ওই গোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য।
বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন সতর্ক। ক্যাম্পাসে ‘চক্রান্তবিরোধী ঐক্য’ গঠনের ডাক উঠেছে। ছাত্রছাত্রীদের একটি অংশ বলছে,
বুয়েট শুধু প্রযুক্তির প্রতীক নয়, এটি জাতির বিবেক। এখানে কোনো বিদেশি চক্র বা মতাদর্শের জায়গা নেই।”
বুয়েটের এই রাতের জাগরণ কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ নয় এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সচেতনতার প্রতিফলন। শ্রীশান্ত গংয়ের মতো চক্রগুলো যদি সত্যিই সংগঠিত হয়ে থাকে, তবে তাদের উদ্দেশ্য একটাই: অশান্ত বাংলাদেশ।
এখন প্রশ্ন রাষ্ট্র ও সমাজ কত দ্রুত এ ধরনের চক্রান্ত চিহ্নিত করে প্রতিরোধে নামবে।