ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৫:
গণভোটের বিষয়ে শুরুতে ইতিবাচক অবস্থান নিলেও এখন বিএনপি বিষয়টি নিয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করছে এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, তারা গণভোট আয়োজনের পক্ষে এবং নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই এই গণভোট সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে, যাতে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের মতামত নির্ভর একটি রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন এক বিষয় নয়। গণভোট জনগণের মতামতের একটি গণতান্ত্রিক প্রতিফলন, আর জাতীয় নির্বাচন হলো রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া। দুটি বিষয়কে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি তৈরি ছাড়া আর কিছু নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি শুরুতে গণভোটের ধারণাকে স্বাগত জানালেও এখন নানা অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি ঠান্ডা করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে।”
বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার কাছে গণভোটের রূপরেখা দ্রুত প্রকাশ এবং তারিখ ঘোষণার দাবি জানায়। তাহের বলেন, “আমরা চাই নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেই গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। এরপর জনগণের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন হোক—এটাই সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঠিক ধারাবাহিকতা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল জনগণের সিদ্ধান্তে আস্থা না রেখে শুধু ক্ষমতার সমীকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। “আমরা মনে করি, যে সরকার জনগণের রায় নিতে ভয় পায়, সেই সরকার কখনও টেকসই হতে পারে না,”—বলেন তাহের।
বৈঠকে জামায়াত নেতারা গণভোটের প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের জনগণ আজ একটি নতুন রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অপেক্ষায় আছে, এবং গণভোটই সেই সুযোগ তৈরি করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির অবস্থানের এই পার্থক্য আসন্ন নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গণভোট ঘিরে জোটভিত্তিক রাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন শুরু হতে পারে বলেও তারা ধারণা করছেন।
সারসংক্ষেপে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—তারা গণভোটে রাজি, তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনই তাদের প্রধান দাবি। আর বিএনপি এখন এই ইস্যুতে পিছিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের খেলায় মেতেছে বলেই অভিযোগ তাদের।