তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থাহীনতা ও রাজনৈতিক দুর্বলতার সময়ে জনগণের পক্ষে নৈতিক দিকনির্দেশনা দেন প্রবাসে অবস্থানরত ড. কর্নেল শহিদ উদ্দিন খান। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তার চিন্তা, বক্তব্য ও নেতৃত্ব প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিকামী জনতাকে।
“মানুষের বিষয়টা তুমি কতটা ভেবে দেখেছো? প্রথমত, তাদের আবার ভালোবাসো, তাদের সমর্থন পেতে হলে। সম্প্রতি তার অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে এই বার্তাটি লিখেছেন বাংলাদেশের সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও গণঅভ্যুত্থানের ঘোষক ড. কর্নেল শহিদ উদ্দিন খান। এই সংক্ষিপ্ত বাক্যেই যেন তিনি পুরো একটি রাজনৈতিক দর্শন ব্যক্ত করেছেন যেখানে জনগণই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল এক নৈতিক ও সামাজিক জাগরণের প্রতীক। প্রবাসে থেকেও ড. কর্নেল শহিদ উদ্দিন খান ছিলেন আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। তার একাধিক বক্তব্য, বার্তা এবং বিশ্লেষণ গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই তাকে আখ্যা দেন “জনগণের বিবেকের কণ্ঠ” হিসেবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের ব্যর্থতা, জনগণের বিশ্বাস হারানো এবং সংগঠনের মধ্যে বিভাজনের সময়, ড. কর্নেল শহিদ উদ্দিন খান বাস্তবতার নির্ভর বিশ্লেষণ ও মুক্তচিন্তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন
নেতৃত্ব মানে শুধু অবস্থান নয়, নেতৃত্ব মানে আত্মত্যাগ, নৈতিক দৃঢ়তা ও জনগণের জন্য নির্ভীক ভালোবাসা।
এই দর্শনই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ প্রজন্মকে নাড়া দেয়। রাজপথে আন্দোলনরত হাজারো মানুষ তার বক্তব্যে নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজে পান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্নেল শহিদ উদ্দিন খানের অবদান শুধু রাজনৈতিক আহ্বানে সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তার নতুন পরিকাঠামো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। গণআন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে তার ভিডিও বার্তা, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং নৈতিক অবস্থান দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ভেতর বিভ্রান্তি ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়। আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব ছিল স্পষ্ট। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, সেই সময়টিতে কর্নেল শহিদ উদ্দিন খান জনগণের পাশে থেকে যে স্পষ্ট ও নৈতিক বার্তা দিয়েছেন, সেটিই আন্দোলনকে নতুন প্রাণ দিয়েছে।
তিনি নতুন সংবিধান রচনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেন। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন
এই দেশকে মুক্ত করতে হলে প্রথমে মুক্ত করতে হবে নেতৃত্বের মানসিকতা এবং নতুন সংবিধান, তিনি আরো বলেন জনগণকে ভালোবাসা ছাড়া কোনো বিপ্লব টেকে না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে ড. কর্নেল শহিদ উদ্দিন খানের নাম উচ্চারিত হবে একজন দূরদর্শী চিন্তাবিদ, নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক এবং জনগণের কণ্ঠ হিসেবে। তার বার্তা আজও প্রাসঙ্গিক
রাজনীতি ক্ষমতার নয়, মানুষের ভালোবাসার জন্য।
প্রকাশের তারিখ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা