নির্বাচনের আগে পাহাড়ে বিদেশি তৎপরতা বাড়ছে, গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও তৎসংলগ্ন সীমান্তাঞ্চলে বিদেশি তৎপরতা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুর প্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষে নানা ধরনের ‘গবেষণা’, ‘মানবিক সহায়তা’, ‘পর্যটন উন্নয়ন’ ও ‘সামাজিক প্রকল্পের’ আড়ালে নতুন করে বিদেশিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, পশ্চিমাদের চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলে বিশেষ আগ্রহ এবং বাম দল ও এনজিওগুলোর তৎপরতা এখন সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ১৩টি বিদেশি সংস্থা ও কূটনৈতিক দলের প্রতিনিধি পাহাড়ে সফর করেছে যা আগের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্কেল চিফসহ প্রভাবশালী কিছু স্থানীয় নেতা বিদেশি পরামর্শক ও গবেষকদের পাহাড়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ, নদী উৎস ও ভূমি জরিপ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে পাহাড়ি এলাকায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এটি বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের ত্রিমুখী সংযোগস্থল। এ অঞ্চলে বিদেশি স্বার্থ জড়িত হলে তা শুধু নিরাপত্তা নয়, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
যেভাবে বিদেশি সংস্থাগুলো মানবিক সহায়তার আড়ালে পাহাড়ে প্রবেশ করছে, তা নিঃসন্দেহে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। সরকারের এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যবিবরণী, Daily Crisis BD, ৩১ অক্টোবর ২০২৫