ঢাকা, ৩ নভেম্বর ২০২৫: আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার ও অনিয়মিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সময়মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কার্ডিয়াক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আমিন বলেন, “হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো নিয়মিত জীবনধারা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কমানো। এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন:
- সুষম খাদ্যাভ্যাস: প্রচুর ফল, সবজি, বাদাম ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া। তেল, চর্বি ও অতিরিক্ত লবণ এড়ানো।
- নিয়মিত ব্যায়াম: দৈনিক কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো বা হালকা ব্যায়াম।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা হার্টের উপর চাপ বাড়ায়, তাই স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা জরুরি।
- ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়ানো: সিগারেট ও অতিরিক্ত মদ্যপান হার্ট অ্যাটাকের বড় কারণ।
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: ধ্যান, যোগব্যায়াম বা হালকা সৃজনশীল কার্যক্রম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও সুগার নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
ডা. আমিন আরও জানান, “হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে ছোট ছোট পরিবর্তনও বড় ফল দিতে পারে। জীবনযাত্রায় সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার।”
উপসংহার: হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের জন্য কোনো একক ঔষধের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও সচেতনতা বেশি কার্যকর। আজ থেকেই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ শুরু করলে হৃদয় সুস্থ রাখা সম্ভব।