চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে: উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য মন্তব্য লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজের
লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ ফেসবুক পোস্টে বলেন বন্দর আধুনিকীকরণকে “বিক্রি” বলা রাজনৈতিক বিভ্রান্তি; উন্নয়ন হলে কমবে দুর্নীতি, বাড়বে গতি ও কর্মসংস্থান।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে কঠোর মতামত প্রকাশ করেছেন লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজ (অব.)। তাঁর ভাষ্য, “যখন অতীতে নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দেশের ক্ষতি হয়েছে, তখন সমালোচকরা নীরব ছিলেন। এখন আধুনিকীকরণের উদ্যোগকে ‘বন্দর বিক্রি’ বলা হচ্ছে যা মূলত ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি–রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই বন্দর আধুনিক করা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কেন আধুনিকায়ন প্রয়োজন?
বর্তমানে একটি জাহাজ থেকে পণ্য আনলোড করতে ১৬ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। আধুনিক সরঞ্জাম, বড় জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা এবং উন্নত ম্যানেজমেন্ট না থাকায় বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির।
সরকারের লক্ষ্য
পণ্য আনলোডের সময় ১৬ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় আনা
বড় জাহাজের জন্য বার্থ তৈরি
কার্যক্রম ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা
আন্তর্জাতিক মানের অপারেশন চালু করা
লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজের মতে, বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে এসব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ দেশে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার, দক্ষ অপারেটর বা আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই। ফলে বিশ্বমানের বন্দর পরিচালনায় অভিজ্ঞ বিদেশি কোম্পানিকে আনতে হচ্ছে।
কোন বিদেশি কোম্পানি কাজ করবে?
যে কোম্পানিগুলো ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, চীনসহ ৩৩টি দেশে ৬০টির বেশি বন্দর পরিচালনা করে, তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে চায় সরকার।
তবে অপারেশন হবে যৌথভাবে
কাজ করবে বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকরাও
তারা প্রশিক্ষণ নেবে
ভবিষ্যতে বিশ্বের বড় বড় বন্দরে বাংলাদেশের দক্ষ জনবল কাজ করতে পারবে
সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে পুরোপুরি
নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনসহ সব নিরাপত্তা সংস্থা আগের মতোই তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
বন্দর ব্যবস্থাপনা থাকবে সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে; ফলে সার্বভৌমত্বের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
আধুনিক হলে দেশের যে লাভগুলো হবে
৮ লাখ অতিরিক্ত TEU ধারণক্ষমতা (৪৪% বৃদ্ধি)
পরিবহন ব্যয় কমবে
আমদানি–রপ্তানি গতি বাড়বে
দ্বিগুণ আকারের কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারবে
দূরবর্তী দেশের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ সংযোগ
৫০০–৭০০ সরাসরি এবং হাজারো পরোক্ষ কর্মসংস্থান
স্থানীয় প্রকৌশলীদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ
ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেশন ও প্রযুক্তি স্থানান্তর
দুর্নীতির সুযোগ ব্যাপকভাবে কমে যাবে
বাংলাদেশের প্রথম গ্রীন পোর্ট প্রতিষ্ঠাবাধা কোথায়?লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজের দাবি
বন্দর আধুনিক হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে অসাধু সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ স্বার্থবাজরা।
দ্রুত, প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ কার্যক্রম হলে তাদের “কাটমানি, দেরি করানো, অনিয়ম” আর সম্ভব হবে না।“এ কারণে তারা জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে,”— বলেন তিনি।
সরকার দ্রুত এগোতে চাইছে কেন?
সরকারের হাতে সময় কম
আধুনিক বন্দর চালু হলে জিডিপি বাড়বে
আরও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে
অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগোবে
লে. কর্নেল ফেরদৌস আজিজের মতে,
“বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত বন্দর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে আধুনিকীকরণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। একটি গোষ্ঠী উন্নয়ন থামাতে চায়, কিন্তু দেশের স্পষ্ট লাভের বিষয়টি মানুষকে জানতে হবে।”