ময়মনসিংহ সীমান্তে শত কোটি টাকার চোরাচালান ও মাদক জব্দ, -গ্রেপ্তার ৪৪৩ জন৷
সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সরাইল রিজিয়নের টানা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয় গত এক বছরের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য। জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে ২৫ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সরাইল রিজিয়ন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে ৭১০ কোটি ৮১ লক্ষ টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ এবং ৬৪ জন চোরাচালানীকে আটক করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে স্বর্ণ, মোবাইল সেট, বিদেশি সিগারেট, পোশাক, মূল্যবান কাঠ, গরু ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ নানা নিষিদ্ধ দ্রব্য রয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৪৩ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য, যার মধ্যে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, আইস, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাদক রয়েছে। এসব অভিযানে ৩৩০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বিজিবি। সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণের সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ফলেই এই সফলতা এসেছে বলে উল্লেখ করা হয় ব্রিফিংয়ে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ময়মনসিংহ সেক্টর একাই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫৫ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে এবং ১৪ জন চোরাচালানীকে আটক করেছে। পাশাপাশি ৪ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার মাদকসহ ১০০ জনকে গ্রেফতার করে সেক্টরটি চলতি বছরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। স্থানীয় বিজিবি ব্যাটালিয়নগুলোর সমন্বিত তৎপরতা এবং সীমান্তবর্তী জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই ফলাফলের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
এছাড়া সীমান্ত উপকূলবর্তী ও নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ বালু–পাথর উত্তোলন রোধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৮ জনকে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লক্ষ ঘনফুট বালু–পাথর, যা সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় শতাধিক অবৈধ ডাম্পার, ট্রাক, ট্রলি ও বিভিন্ন ভারী যানবাহন আটক করা হয়। এসব চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন ও পরিবেশ ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন—
“সীমান্তকে নিরাপদ রাখার জন্য বিজিবি দিন-রাত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চোরাচালান, মাদক, মানবপাচার বা যে কোনো সীমান্ত অপরাধ দমনে আমরা কোনোরকম ছাড় দিচ্ছি না। জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে সীমান্তকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে বিজিবির অভিযান আরো জোরদার করা হবে।