তেহরান/ওয়াশিংটন, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির ৩১ প্রদেশের অন্তত ২২টিতে ছড়িয়ে পড়ে। সহিংসতার ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে কোমে গ্রেনেড বিস্ফোরণে একজন নিহত হন, এবং কেরমানশাহ প্রদেশের হারসিনে আইআরজিসির আধাসামরিক শাখা বাসিজের এক সদস্য বন্দুক ও ছুরি হামলায় প্রাণ হারান।
ট্রাম্পের হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন,
“ইরানের পুরোনো অভ্যাস শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করা। যদি তারা আবারও তা করে, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছি।”
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন,
“ট্রাম্পের বার্তা বেপরোয়া ও ভয়াবহ। ইরানের জনগণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করবে। আমাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী সতর্ক থাকবে এবং সার্বভৌমত্বে আঘাতের সম্ভাব্য যে কোনো ঘটনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে।”
একইসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তবে তার “ত্বরিত, চূড়ান্ত ও সামগ্রিক” জবাব দেওয়া হবে। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অতীত কর্মকাণ্ড—১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান, ১৯৮০-এর দশকে ইরাকে উসকানি, ১৯৮৮ সালে বেসামরিক বিমানে গুলি করে ৩০০ যাত্রী হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে ট্রাম্পের হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)
শনিবার আইআরজিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের হুমকি “নিজের হতাশা থেকে” করা হচ্ছে। তারা সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।
জাতিসংঘে ইরানের নিন্দা
ইরানের দূত আমির সাইদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসকে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্পের হুমকিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,
“বাইরে থেকে চাপ বা সামরিক আগ্রাসনের জন্য অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভকে উসকানি দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর মোকাবিলায় ইরানের স্বাভাবিক আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।”