শরীয়তপুর, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভাষানী খানের বাড়িসহ ৯টি বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভাষানী খানের সমর্থকদের বাড়ি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান ভাষানী খান আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। গত ১৭ জানুয়ারি তিনি এবং তার সমর্থকরা বিএনপিতে যোগ দেন। এর সাত দিনের মধ্যে শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার চরগয়ঘর এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
ভাষানীর পরিবারের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা প্রথমে তার বাড়িতে হামলা চালায়। ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরে একই পক্ষ আরও ৮টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় চেয়ারম্যান নিজে বাড়িতে ছিলেন না; তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানদের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন।
ভাষানীর শাশুড়ি রাশিদা বেগম বলেন, “ককটেল বোমার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। এরপর ১৫-২০ জন মানুষ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং টাকা-স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। কেন এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে তা বুঝতে পারছি না।”
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সমর্থক ইদ্রিস খান বলেন, “চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলাম। এ কারণে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় এবং কয়েক দিন ধরে হুমকি দিচ্ছিল।”
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি বলেন, “এভাবে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করবে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে, তাদের যে দলের হোক না কেন।”
শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসূল জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।