ঢাকা | ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
স্বামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা জাকাত আদায় করে না, তাদের ঈমান নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, জাকাত কোনো দান নয়, এটি গরিবের ন্যায্য অধিকার; অথচ সমাজে এ বিষয়ে চরম অবহেলা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাকাত’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হওয়া চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার ২০২৬ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন ধর্ম উপদেষ্টা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে সেমিনারের মাধ্যমে এই ফেয়ারের উদ্বোধন করা হয়। আয়োজন করে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ইসলামের ইতিহাসে এক হাজার বছর আগেও রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত আদায় করা হতো। ব্রিটিশ ও মুঘল আমলে এসে তা ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যার ফলে জাকাতের সামাজিক গুরুত্ব কমে যায়।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নেওয়া একটি দুঃখজনক বাস্তবতা। যদি জাকাত সঠিকভাবে আদায় ও বণ্টন হতো, তাহলে কাউকে এ ধরনের পেশায় যেতে হতো না।”
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, “অনেক ধনী ব্যক্তি আছেন, যারা নিয়ম অনুযায়ী জাকাত দেন না। জাকাত কোনো দান-খয়রাত নয়, এটা দরিদ্র মানুষের হক। যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও জাকাত দেয় না, তাদের ঈমান প্রশ্নবিদ্ধ।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব একটি গভীর দার্শনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জাকাত শুধু আর্থিক দায়িত্ব নয়, এর সঙ্গে নৈতিক দায়বদ্ধতাও জড়িত।
তিনি বলেন, “জাকাত দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সেটাও তদারকি করা জরুরি।”
স্বাগত বক্তব্যে সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে তারা জাকাত ফেয়ার আয়োজন করে আসছেন ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। তিনি জানান, দেশে অনেকেই জাকাত দেন না, আবার যারা দেন তারাও অনেক ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মে দেন না।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা গেলে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র, যা আয়ের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে। এই বৈষম্য কমাতে জাকাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”