রাজধানীর কাকরাইলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং মানুষ হত্যা করে কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মানুষ একদিন ওই বেড়া উপড়ে ফেলবে।”
মঙ্গলবার আইডিইবি (ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ) ভবনে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স আয়োজিত “শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ” শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর অভিযান প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সে সময় বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র আরও সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা থাকা উচিত ছিল। যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে আন্দোলনের আড়ালে বিরোধী মত দমন ও ইসলামবিদ্বেষকে উসকে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, সে সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ হিসেবে প্রচার করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, “যারা ভিকটিম ছিল, তাদেরই অপরাধী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। দাড়ি-টুপি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা ছিল।”
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে জুলাই গণহত্যার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা সমর্থন বা অসমর্থনের বিষয় আলাদা হলেও, যে কোনো গোষ্ঠীর মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ বলেও উল্লেখ করেন এনসিপির আহ্বায়ক।