প্রতিবেদক:Daily Crisis BD নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
প্রায় দুই দশক পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,
“ভারত যদি বাংলাদেশের কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে আশ্রয় দেয় বা সমর্থন করে দেশের মানুষের বিরাগভাজন হয় তাহলে আমাদের কিছু করার নাই। এটা তাদের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু ইতিহাস বলে বাংলার মানুষ কোনোদিনই অন্যায়ের পাশে দাঁড়ায়নি।”
প্রায় ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে অংশ নেন তিনি। বিবিসি বাংলার সঙ্গে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান খোলামেলা কথা বলেন দলীয় সংস্কার, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, গণতন্ত্র, এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে।
প্রতিবেশী সম্পর্ক হতে হবে সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে”
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন
“আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব হতে হবে সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশ কোনো প্রভুত্ব মেনে নিতে পারে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা যদি কেউ উপেক্ষা করে, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণেরই প্রতিরোধের মুখে পড়বে।”
তিনি আরও যোগ করেন
“ভারত যদি বর্তমান দমনমূলক সরকারকে সমর্থন করে, তাহলে তারা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে। জনগণ গণতন্ত্র চায়, স্বাধীনতা চায়, আর সেটাই এখন সময়ের দাবি।”
দলীয় সংস্কার ও তরুণ নেতৃত্বে আস্থা
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“বিএনপি এখন সময়ের বাস্তবতা অনুযায়ী নিজেকে পুনর্গঠিত করছে। তরুণ প্রজন্মকে আমরা নেতৃত্বে আনছি, দলীয় সিদ্ধান্তে গণতন্ত্রায়ন আনছি। বিএনপি এখন কেবল একটি দল নয়, এটি জনগণের মুক্তির প্ল্যাটফর্ম।”
দেশে ফেরার ইঙ্গিত
তারেক রহমান সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন।
“দেশের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। জনগণ জেগে উঠেছে, গণতন্ত্রের লড়াই নতুন গতি পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, খুব শিগগিরই আমি জনগণের পাশে থাকব।”
বিশ্লেষকদের মন্তব্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎকার দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে “ভারত-গণতন্ত্র-বাংলাদেশ” ত্রিমুখী সম্পর্কের প্রশ্নে তার বক্তব্য একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একজন বিশ্লেষক বলেন—
“তারেক রহমানের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য পুনঃস্থাপনের এক ইঙ্গিত।”
দীর্ঘ নীরবতার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফিরে এসে তারেক রহমান যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে
তিনি শুধু রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন না, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতেও নতুন ভাষা দিতে চাইছেন।
তার এই বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্র ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের আলোচনাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।