স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | অক্টোবর ২৬, ২০২৫
আগামী নভেম্বর মাসে ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এই রায়কে বাধাগ্রস্ত করা ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে ভারতে পলায়ন করা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ভারত সীমান্তপথে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একটি অভিযানিক দল গত সপ্তাহে রাজশাহী থেকে আগত একটি ট্রেনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৮টি বিদেশি পিস্তল, ৮টি ম্যাগাজিন, ৪০ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক গান পাউডার ও প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দেশে আনা হয়, এবং রাজধানী ঢাকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চক্রের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল। এই চক্রের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের আগে ভয়-ভীতি ও নাশকতা সৃষ্টি করে বিচারিক প্রক্রিয়া ও দেশের স্থিতিশীলতা ব্যাহত করা।
সাম্প্রতিক সময়ে ধরা পড়া এটিই সর্ববৃহৎ অবৈধ অস্ত্রের চালান। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এ অভিযান শুধু একটি সফল উদ্ধার অভিযান নয়—বরং এটি দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের নেপথ্য চক্রকে উন্মোচনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গুম-খুনের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সেনাবাহিনীর সৎ ও দেশপ্রেমিক সদস্যদের মনোবল আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা এখন দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযানিক ইউনিট ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং অটল অবস্থানে রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নেবে, যা ভবিষ্যতে দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।