[Daily Crisis BD| আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ভারতের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বৈশ্বিক বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী।
অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের বরাতে জানা গেছে, জাতিসংঘের পাঁচজন বিশেষ র্যাপোর্টিউর ও একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞের প্রস্তুত করা ১৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তারিখ ১৬ অক্টোবর হলেও এটি প্রকাশ করা হয় ১৫ ডিসেম্বর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেহেলগাম হামলার পর ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে সামরিক অভিযান এবং একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের দৃষ্টিতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং কোটি কোটি মানুষের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা উপসংহারে বলেন, ভারতের কার্যক্রম জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও চুক্তিভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার মাধ্যমে ডজনখানেক কথিত জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও, পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার পক্ষে ভারত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন, সন্ত্রাসবাদ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের অধিকার। তবে তারা জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন অত্যন্ত কঠোর সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সময় নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক হলেও ভারত তা করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নিরাপত্তা পরিষদে নোটিফিকেশনের অনুপস্থিতি এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসন্ন সশস্ত্র হামলার নির্ভরযোগ্য ও প্রকাশযোগ্য প্রমাণ না থাকলে সীমান্ত পেরিয়ে সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করার নীতির লঙ্ঘন হতে পারে এবং জীবনাধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত হানতে পারে—এমন সতর্কতাও দেন তারা।
প্রতিবেদনে আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে পেহেলগাম হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ছয়টি নদীর পানিবণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পানি চুক্তি হিসেবে পরিচিত।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তির বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন পাকিস্তানের কোটি কোটি মানুষের পানীয় জল, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশনের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মৌলিক মানবাধিকার।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সীমান্ত অতিক্রমকারী নদী নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানবিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক পানি চুক্তিগুলো আইনি বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে এবং নির্ধারিত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এড়িয়ে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসনকে দুর্বল করে।
পাকিস্তানে ভারতের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে: জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা
Related Posts
ডেইলিক্রাইসিস বিডি
আপডেটের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের
সর্বশেষ খবর জানতে সাবস্ক্রাইব করুন
Office Address
29, Toyenbee Circular Road (5th Floor),
Dainik Bangla Moore,
Motijheel C/A, Dhaka-1000