সাংবাদিক দম্পতি সাগর–রুনী হত্যাকাণ্ডের পর তাদের সন্তান মেঘ থেকে শুরু করে হাদীর আট মাস বয়সী সন্তান ফিরনাস—কেউই আজ পর্যন্ত এই রাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যায়ের নিশ্চয়তা পায়নি। বিচারহীনতার এই দীর্ঘ সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের মানসিকতায় গভীর ট্রমা তৈরি করেছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ভয়াবহ সংকেত।
সাগর–রুনী হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতার এক প্রতীক। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারা রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও সদিচ্ছা—দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এই বিচারহীনতার ধারাবাহিকতায় বড় হচ্ছে মেঘ, ফিরনাসের মতো শিশুরা। তারা এমন এক বাস্তবতায় বেড়ে উঠছে, যেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব—এমন বিশ্বাস গড়ে ওঠার সুযোগই পাচ্ছে না। বরং তাদের মনে গেঁথে যাচ্ছে ভয়—ভারতীয় আধিপত্যবাদ, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ কিংবা রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে কিংবা শক্ত অবস্থান নিলে পরিণতি ভালো হয় না।
জুলাই মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকেই আশা করেছিলেন—এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বদলাবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, সেই পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান হয়নি। পুরনো ভয়, পুরনো নীরবতা আর পুরনো অনিশ্চয়তাই টিকে আছে।
তবুও হাল ছাড়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন হলে নিজেদের জীবন দিয়ে হলেও হাদীসহ সকল রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারই এখন সামনে।
মেঘ ও ফিরনাসদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই সংগ্রামের মূল লক্ষ্য—যেখানে কেউ আর এই ভয় নিয়ে বড় হবে না যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে জীবন, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে।
ন্যায়বিচার কেবল আদালতের রায়ে সীমাবদ্ধ নয়—এটি একটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি। সেই ভিত্তি দুর্বল হলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভয় আর ট্রমা নিয়েই বেড়ে ওঠে। এই চক্র ভাঙতেই হবে।