মাধ্যমিক ও কারিগরি স্তরের ৮৮ শতাংশ বই মুদ্রিত, ৭৮ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে; অষ্টম শ্রেণির বই এখনও আংশিক মাত্র
মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অনেক পাঠ্যবই এখনও হাতে পৌঁছায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের সব অবশিষ্ট বই সরবরাহ সম্পন্ন হবে। এই বছরের বই সরবরাহে অতীতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে।
বই সরবরাহের অবস্থা
- চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪ কপি পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮৪.৭৮% বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।
- প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই ১০০% বিতরণ সম্পন্ন, পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায়ও বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে।
- ইবতেদায়ি ও ব্রেইল পদ্ধতির বইও প্রায় শতভাগ বিতরণ করা হয়েছে।
মাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি) ও ইবতেদায়ি স্তরের ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪ কপি বইয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
- মুদ্রণ সম্পন্ন: ৮৮.৫০%
- প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (PDI) সম্পন্ন: ৮১.৬০%
- সরবরাহিত: ৭৮.৬৯%
সমস্যা ও অষ্টম শ্রেণির বই
- নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জানিয়েছেন, “প্রাথমিক সব বই পাওয়া গেলেও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো হাতে নেই।”
- কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন বলেছেন, “নবম শ্রেণির বই সবচেয়ে কমসংখ্যক পাওয়া গেছে।”
- এবারের সমস্যা মূলত কম দর দিয়ে টেন্ডার পাওয়ায়। অষ্টম শ্রেণির প্রতি বইয়ের ফর্মার দর ছিল ৩ টাকা ৪০ পয়সা, কিন্তু কিছু প্রেস মালিক মাত্র ২ টাকা ৮৩ পয়সায় টেন্ডার জমা দিয়েছেন।
এনসিটিবির মন্তব্য
এনসিটিবি বিতরণ নিয়ন্ত্রক মতিউর রহমান পাঠান বলেন:
“অষ্টম শ্রেণির বই নিয়ে যে শঙ্কা ছড়ানো হচ্ছে, তা অতিমাত্রায় নয়। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির অর্ধেকের বেশি বই ইতিমধ্যে স্কুলে পৌঁছে গেছে। আমরা আশা করছি, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিকের সব শ্রেণির বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
এনসিটিবি জানায়, মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও নিবিড় তদারকের মাধ্যমে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট সব বই সরবরাহ নিশ্চিত হবে।