মোংলা ফেরিঘাট এলাকায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অভিযানের প্রতিবাদে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রায় ৪০০ জালিবোট চলাচল বন্ধ
মোংলা, বাংলাদেশ — ৬ জানুয়ারি ২০২৬
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান (জালিবোট) চলাচল দ্বিতীয় দিনেও বন্ধ রয়েছে। মোংলা ফেরিঘাট এলাকায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অভিযানের প্রতিবাদে জালিবোট মালিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে সুন্দরবনগামী প্রায় ৪০০ নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকেরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী ধর্মঘটের কারণে সুন্দরবনে ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীরা মোংলা এলাকায় আটকে পড়েন। কেউ কেউ ফিরে যেতে বাধ্য হন হতাশা নিয়ে।
এর আগে রোববার মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনের করমজলসহ বনের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী পর্যটকবাহী ট্রলার ও জালিবোটকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনের আওতায় আনতে অভিযান চালায় নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ অভিযানের জের ধরে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করে মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘ, যা মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে গড়ায়।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের দাবি, মোংলায় প্রায় ৪০০টি পর্যটকবাহী জালিবোট রয়েছে এবং প্রতিটি বোটের ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিদ্যমান। তবে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) অন্তত ৩০টি জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে নিয়ে যায়। এতে নৌযানের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের বসার স্বাচ্ছন্দ্যও বিঘ্নিত হয়েছে।
সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হাওলাদার বলেন, “আমরা মূলত বিদেশি জাহাজের জালিবোট সংস্কার করে পর্যটক পরিবহনে ব্যবহার করি। কোস্টগার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বোটে সর্বোচ্চ ১০ জন পর্যটক পরিবহন করা হয়। আমাদের সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু এখন হঠাৎ করে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিতে বলা হচ্ছে, যার জন্য প্রতিবছর ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।”
পর্যটকদের মধ্যেও দেখা গেছে হতাশা। ঈশ্বরদী থেকে পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে আসা সোহান বলেন, “সুন্দরবন ঘুরতে এসে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আটকে গেছি। জালিবোট বন্ধ থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে।”
দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা আবু হাসান বলেন, “মেয়ের শখ পূরণ করতে সুন্দরবন দেখতে আসছিলাম। কিন্তু এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ। এখন আর যাওয়ার উপায় নেই।”
এদিকে সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, ধর্মঘটের কারণে সারাদিন কোনো পর্যটক বা নৌযান করমজলে প্রবেশ করেনি।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর, খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, “অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী ১৬ হর্স পাওয়ার বা তার বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনযুক্ত সব নৌযানকে লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে। সেই আইন বাস্তবায়নে কোস্টগার্ড ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর যৌথ অভিযান চালিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জালিবোটগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে মূলত নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য। আমাদের উদ্দেশ্য পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”