পার্সা ও ধানুষা জেলায় সহিংস বিক্ষোভের জেরে সীমান্ত বন্ধ করল ভারত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপাল প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা
কাঠমান্ডু, নেপাল – ৬ জানুয়ারি ২০২৬
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের পার্সা জেলায় একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন কারফিউ জারি করেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ভারত নেপালের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় নেপাল প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, ধানুষা জেলার কমলা মিউনিসিপ্যালিটির সাখুয়া মারান এলাকায় একদল দুষ্কৃতিকারী একটি মসজিদে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে পার্সা জেলার বীরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একটি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রায় ছয় রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় সোমবার বিকেলে জেলার কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়। প্রথমে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করা হলেও, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তা মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
এদিকে নেপালে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) পুরো সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের সাধারণ যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারত-নেপাল সংযোগকারী মৈত্রী ব্রিজেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রত্যেক ব্যক্তির কড়া তল্লাশি করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে।