নওগাঁ–রাজশাহী রুটের বাসচালক বাদলের অভিযোগ, সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে।
নওগাঁ থেকে রাজশাহীগামী একটি বাসে তর্কাতর্কির জেরে এক বাসচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একজন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলেও মূলধারার গণমাধ্যমে বিষয়টি এখনো তেমনভাবে উঠে আসেনি।
ভুক্তভোগী বাসচালক বাদল-এর ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার নওগাঁ থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বাসে এক যাত্রীর সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়। ওই যাত্রী ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ-এর স্বামী জয়ন্ত বর্মণ।
বাদলের দাবি, জয়ন্ত বর্মণ সিটবিহীন টিকিট কেটে বাসে উঠে অন্য যাত্রীর নির্ধারিত সিট দখল করেন। এতে বাসের সুপারভাইজার বাধা দিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং নিজের স্ত্রীর পদমর্যাদা উল্লেখ করে বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তিনি বাস থেকে নেমে যান।
বাসচালক বাদলের অভিযোগ, ওই রাতেই তাকে সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ নিজে তাকে লাথি মারেন এবং পরে তাঁর স্বামীসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন। বাদলের দাবি, মারধর করা হয়েছে শরীরের সংবেদনশীল অংশে।
ঘটনার পর থেকে বাদল শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ বলে জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা বা সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—
- শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগ হলেও কেন বিষয়টি নিয়ে তেমন প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না?
- শ্রমিক অধিকার নিয়ে রাজনীতি করা দলগুলো কেন নীরব?
অনেকে বিষয়টিকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ হিসেবে দেখছেন।