সম্প্রতি এক বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর মুসলিম নারীদের পর্দার অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘নিকাব’ নিয়ে যে চরম অবমাননাকর ও ইতিহাস বিকৃত মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নিকাবকে নিয়ে তিনি যে কদর্য বক্তব্য দিয়েছেন, তা কেবল এদেশের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতই নয়, বরং নারীর অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপরও নগ্ন হস্তক্ষেপ।
মুসলিম জনজীবনে হিজাব-নিকাব ইসলামী বিধান ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি মুসলিম নারীর মর্যাদা, সুরক্ষা ও আভিজাত্যের প্রতীক, এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিম নারীদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। সর্বোপরি, নিকাব কুরআন ও সুন্নাহর পর্দার বিধান পালনের একটি উত্তম উপায়।
মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বক্তব্য মূলত দীর্ঘদিনের চর্চিত ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামভীতিরই বহিঃপ্রকাশ। ইতিপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিকাবী ছাত্রীরা যে চরম বৈষম্য (ব্যক্তিগত ও কাঠামোগত) ও কদর্য আচরণের শিকার হয়েছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক মনোভাব ও বক্তব্য সেই ঘৃণা চর্চাকেই উসকে দেয়।
একজন রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকে যখন নিজ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় সংস্কৃতি নিয়ে এমন বিদ্বেষমূলক ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ চয়ন বের হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে— এই সংকীর্ণ ও বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তিদের হাতে আমাদের আগামীর বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ? যারা জনগণের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করতে জানে না, তারা জাতীয় অগ্রগতির পথে বড় অন্তরায়।
আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই, অবিলম্বে এই বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। এদেশের মানুষের মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনৈতিক মদদে ঘৃণা চর্চা এই প্রজন্ম বরদাশত করবে না।