আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় জোট ছাড়ছে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন; ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলে
ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে আসন বণ্টন নিয়ে দফায় দফায় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জামায়াতকে জানানো হয়—কমপক্ষে ৮০টি আসন না ছাড়লে জোটে থাকা সম্ভব নয়। জামায়াত এই দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
এই অবস্থায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়ে জোটের অন্য শরিক দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠকে বসে। বৈঠক থেকে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমীর মাওলানা মামুনুল হক পুনরায় চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন। তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে তিনি পুরো পরিস্থিতি জামায়াতের এক শীর্ষ নেতাকে অবহিত করেন।
জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে—তাদের পক্ষে আর জোটে থাকা সম্ভব নয়। যদিও চরমোনাই পীরের দল জোট ছাড়লেও অন্য সব শরিক দল জোটে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে পরিণত হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন,
“আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।”
খেলাফত মজলিসের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জোটের শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে একমত হয়েছেন। নতুন করে কিছু আসনে বিন্যাস হতে পারে, তবে তা বড় কোনো সমস্যার কারণ হবে না।
জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগদানের পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপির যোগদানকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি দলটি। একপর্যায়ে ইসলামী আন্দোলন দাবি করে, তাদের ১৪৩টি আসনে বিজয়ের মতো সমর্থন রয়েছে এবং এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনেও তারা প্রার্থী দিতে চায়।
প্রথমে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন, পরে ৪৫টি আসন ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬–৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও ছিল। তবে দলটি ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৮০ আসন ছাড়লে শুধু সম্ভাবনাময় আসন হারানোর ঝুঁকি নয়, বরং অন্য শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত আসনের দাবি উঠবে। এ কারণেই সেই দাবি মানা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব আসনে তারা হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।
যদিও কয়েকদিন ধরেই জোট ভাঙার গুঞ্জন চলছিল, বুধবার তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৪টায় জামায়াত জোট প্রেস কনফারেন্স ডাকলেও চরমোনাই পীরের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় সেটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
রাতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের জোটে সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করলেও সেটি কেটে যাবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে দিনভর ও রাতভর চেষ্টার পরও সমঝোতা না হওয়ায় আজ সকালে জোট ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।