ঢাকা, বাংলাদেশ — ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শাফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন সাফাক অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলের খুনি চোখের সামনে ঘুরে বেড়ালেও এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ভেঙে গেছে বলে জানান তিনি।
“খুনি চোখের সামনে, তবু ধরা হচ্ছে না”
রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জারতাজ পারভীন সাফাক।
তিনি বলেন, “আমার ছেলের খুনি আমার চোখের সামনে বসবাস করছে। আমি নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যে আশা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছিল, সেই আশার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখছি না।”
আহনাফের মৃত্যুর বর্ণনা
জারতাজ পারভীন জানান, গত ৪ আগস্ট মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তাঁর ছেলে শাফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফকে গুলি করা হয়।
তিনি বলেন, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নির্দেশে আমার ছেলের ডান বুকে গুলি করা হয়। গুলি ঢুকে বাম বুক দিয়ে বের হয়ে যায়।”
আহনাফ বিএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ছিল বলে জানান তিনি। ছেলের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “সে বড় বিজনেসম্যান হতে চেয়েছিল, গিটার বাজাতে খুব ভালোবাসত, একজন বড় ব্র্যান্ড শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু তার কোনো স্বপ্নই পূরণ হলো না।”
তারেক রহমানের প্রতি আবেদন
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে শহীদ আহনাফের মা বলেন,
“শেখ হাসিনার আমলে আপনারাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আপনার মা বছরের পর বছর কারাগারে ছিলেন, আপনি দেশে আসতে পারেননি। আজ আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে বলেই আপনি আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছেন।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি বিশ্বাস করি আপনি এই বাস্তবতা স্বীকার করেন। আমি চাই, আপনারা আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে আমাদের সন্তানদের হত্যার বিচার করবেন।”
রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ন্যায়বিচারের দাবি
জারতাজ পারভীন সাফাক স্পষ্ট করে বলেন,
“আমরা কোনো দল করি না—না বিএনপি, না জামায়াত, না আওয়ামী লীগ। আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। দিন আনি দিন খাই। আমরা চাই, আপনারা সব শহীদকে এক নজরে দেখুন।”
সভার প্রেক্ষাপট
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সভায় বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।