নির্বাচনী প্রচারণা শুরু, প্রার্থীরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না
ঢাকা — ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
প্রচারণার সময় ও সীমা
প্রার্থীরা ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। এই সময়ে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। তবে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
পোস্টার ও প্রচারণা সামগ্রীর বিধিনিষেধ
- এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থীরা পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।
- পলিথিন বা রেকসিনের ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা।
- একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট, প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি নয়।
- ব্যানার সর্বোচ্চ ১০ ফুট × ৪ ফুট, লিফলেট/হ্যান্ডবিল সর্বোচ্চ এ-ফোর আকৃতি, ফেস্টুন সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি।
- প্রচারে কেবল নিজের প্রতীক এবং পোর্ট্রেট ছবি ব্যবহার করা যাবে; ছবি সর্বোচ্চ ৬০ সেমি × ৪৫ সেমি।
- দলীয় প্রার্থী শুধুমাত্র দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।
সভা-সমাবেশ ও জনসভা
- জনসভা বা সমাবেশ আয়োজনের আগে অন্তত ২৪ ঘণ্টা পূর্বে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
- সভা-সমাবেশে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবেন না।
- প্রার্থী বিদেশে সভা-সমাবেশ আয়োজন করতে পারবেন না।
সামাজিক যোগাযোগ ও ডিজিটাল প্রচারণা
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো যাবে।
- প্রচারণার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা-কে পেজ/অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে প্রচারণা করা যাবে না।
- ঘৃণাত্মক, মিথ্যা, বিকৃত তথ্য বা ধর্মীয়/জাতিগত উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ।
যানবাহন ও আকাশযান ব্যবহারের বিধিনিষেধ
- বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য যান্ত্রিক বাহন ব্যবহার করে মিছিল, শোডাউন বা জনসভা করা যাবে না।
- মশাল মিছিল ও তোরণ নির্মাণ বা আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ।
- দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না।
শাস্তির বিধান
- আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
- দলের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা।
- প্রমাণিত হলে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করার ক্ষমতা ইসির হাতে।