আমীরে জামায়াতের সোজাসাপটা বক্তব্যে ফুটে ওঠেছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের হৃদয়ের কথা, আর শোষিত মানুষের দীর্ঘশ্বাসের অবসানের রূপরেখা। উত্তরবঙ্গের মাটির প্রতিটি কণা যার উর্বরতা দেশকে বাঁচিয়ে রাখে, সেই সোনার মানুষদের প্রতি অতীতে কেউই সুবিচার করেনি। কিন্তু এবার সময় এসেছে ইতিহাস বদলে দেওয়ার।
আমীরে জামায়াত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিস্তা, করতোয়া আর ধরলার বুকে আবার প্রাণের স্পন্দন ফিরবে। বিশেষ করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তাঁর ঘোষণা জাতির মনে নতুন করে সাহসের সঞ্চার করে। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির রক্তচক্ষু সহ্য করা হবে না। ইনশাআল্লাহ, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রথম কোপটি পড়বে তিস্তার বুকে। এটি কেবল একটি ঘোষণা নয়, বরং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ।
আমরা স্বপ্ন দেখছি এমন এক উত্তরবঙ্গের, যা হবে দেশের কৃষি বিপ্লবের রাজধানী। আমীরে জামায়াতের সাস্টেইনেবল পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে গড়ে উঠবে এগ্রো-বেইজড ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। পণ্য সংরক্ষণ, উন্নত বাজারজাতকরণ এবং সর্বাত্মক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।
উত্তরবঙ্গে দেশি-বিদেশি এবং যৌথ বিনিয়োগের যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তিনি বলেছেন, তা আমাদের এক নতুন দিগন্তের পথ দেখাচ্ছে। এর আগে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষকে নিয়ে এভাবে কেউ কোনোদিন ভাবেনি, কেউ সাহস করে দাঁড়ায়নি। ইনশাআল্লাহ, মেহনতি মানুষের এই জনপদ খুব শীঘ্রই তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।