গোপালগঞ্জ | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে দলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সব নির্যাতন ও অবিচারের বিষয়গুলো তারা দলীয়ভাবে ক্ষমা করে দিয়েছেন। প্রতিশোধের রাজনীতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়াবেন না—এই অঙ্গীকার জামায়াত অটুটভাবে ধরে রেখেছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে ঢাকায় ফেরার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. আমির শফিকুর রহমান।
পথসভায় তিনি বলেন, ‘অতীতে আমাদের সঙ্গে যা যা হয়েছে, আমরা তা দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করব না, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়াব না—এই কথা আমরা দিয়েছি এবং তা আমরা রেখেছি।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘ধোঁকাবাজি, ব্যাংক ডাকাতি কিংবা শেয়ারবাজার লুটপাটের রাজনীতি আমরা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি দেশের মালিক হওয়ার জন্য নয়, দেশের সেবক হওয়ার জন্য।’
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দোষারোপ, তোষামদি, ধোঁকা–মিথ্যাবাদী ও ফ্যাসিবাদী কায়দার রাজনীতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘৫ তারিখের আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দুঃখ-কষ্ট পাওয়া দল হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৫ তারিখের পর আমরা সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের আশ্বস্ত করেছি এবং সাহস জুগিয়েছি—এ দেশে সবাই সমান, সবার অধিকারও সমান।’
বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আগামীর প্রজন্মের জন্য আমরা হিংসামুক্ত ও ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোনো জালিমকে আর কারও ওপর হাত বাড়াতে দেওয়া হবে না।’
এর আগে সন্ধ্যা থেকেই মুকসুদপুর কলেজ মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত পথসভাকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
জামায়াত আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়।