ঢাকা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বহু মানুষের ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে দেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, সেই ধারাকে টিকিয়ে রাখা জরুরি। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে রাজধানীর উত্তরা এলাকার গ্যাস, পানি, চিকিৎসা, জলাবদ্ধতা ও যানজটসহ সাতটি প্রধান সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর হয়ে রাত ১২টা ৫২ মিনিটে সভাস্থলে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে দেরিতে আসার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তারেক রহমান বলেন, পথে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে সময় লেগেছে।
উত্তরার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও এখানকার মানুষ গ্যাস ও পানির সংকটে ভুগছে। এই সংকট শুধু উত্তরায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা দেশেই বিদ্যমান। দীর্ঘদিন নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সংকট নিরসনের মাধ্যমে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, উত্তরার মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি সরকারি হাসপাতাল। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পানি সংকট ও জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, খাল ও জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু উত্তরায় নয়, সারা দেশের পানিসংকট ও বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।
যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি শুধু উত্তরার নয়, পুরো ঢাকার বড় সমস্যা। যানজট নিরসনে বিএনপির একটি সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তারকে ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মাদক পরিবার ও সমাজ ধ্বংস করছে—এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরাসহ সারা দেশে অল্পশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬–১৭ বছরে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এসব অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে বহু পরিবার আপনজন হারিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে উত্তরার মানুষের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সমাবেশের শেষদিকে তিনি বলেন, দেশের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে পারস্পরিক দোষারোপ এড়িয়ে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খুন ও গুমের শিকার পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর রাত ১টা ১৭ মিনিটে সভাস্থল ত্যাগ করেন তারেক রহমান।