ঢাকা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এসব অস্ত্র ও গুলির পুরোপুরি অনুসন্ধান ও উদ্ধার সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের আগে এই অস্ত্রপাতি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না হলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বৈঠক ও বিশেষ অভিযানের মধ্যেও উদ্ধার কাজ যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়নি। সেনা-পুলিশ যৌথবাহিনী এখন পর্যন্ত দুই হাজার ২৫৯টি অস্ত্র এবং প্রায় দুই লাখ ৩৭ হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে হাতে না আসা অস্ত্র এবং গুলি অপরাধীদের মাধ্যমে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, নির্বাচনের সময় এসব অস্ত্র উগ্র গোষ্ঠীর হাতে গেলে আইনশৃঙ্খলার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, “যেসব অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি, সেগুলি সুযোগ পেলে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারে। এটি নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।”
সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামও এই উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে চায়নিজ রাইফেল, পিস্তল, শটগান, সাব-মেশিনগান (SMG), লাইট মেশিনগান (LMG) এবং গ্যাসগানসহ বিভিন্ন ধরনের বন্দুক রয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, গণ অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা ৩,৬১৯টি এবং গোলাবারুদের সংখ্যা ৪,৫৬,৪১৮ রাউন্ড।
নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে মোতায়েন করছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচনের সময় ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে তাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কমে যেতে পারে। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।