চেন্নাই | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | রবিবার
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ডের ম্যাচে ইতিহাস গড়েও শেষ রক্ষা হলো না আফগানিস্তানের। গুলবদিন নাইবের ঝড়ো ফিফটিতে বড় সংগ্রহ গড়লেও টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপসদের ব্যাটে সেই রেকর্ড ভেঙে ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল রেকর্ডের দ্বৈরথ। আগে ব্যাট হাতে ইতিহাস লিখে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করায় আফগানিস্তান। গুলবদিন নাইবের ৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে তারা।
তবে আফগানিস্তানের সেই রেকর্ডের আয়ু ছিল মাত্র ২০ ওভার। ১৮৩ রানের লক্ষ্য নিউজিল্যান্ড ছুঁয়ে ফেলে ১৩ বল হাতে রেখেই। এর মাধ্যমে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ে কিউইরা। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে ১৬৭ রান তাড়া করে জয়ই ছিল তাদের সেরা।
এছাড়া আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে যে কোনো দলের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও এটি। আগের রেকর্ডটি ছিল শ্রীলঙ্কার—২০২২ সালে তারা ১৭৬ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল।
নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক টিম সাইফার্ট। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। যদিও শুরুটা সহজ ছিল না কিউইদের জন্য। দ্বিতীয় ওভারে মুজিব উর রহমান পরপর দুই বলে ফিন অ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্রকে ফিরিয়ে দিলে চাপ তৈরি হয়।
তবে সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপসের ৩৬ বলে ৭৪ রানের জুটি দ্রুতই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফিলিপস ৭ চার ও ১ ছক্কায় ২৫ বলে ৪২ রান করে আউট হলেও ততক্ষণে লক্ষ্য অনেকটাই নাগালের মধ্যে চলে আসে।
পরে মার্ক চ্যাপম্যানের সঙ্গে সাইফার্ট ২১ বলে যোগ করেন আরও ৩৬ রান। সাইফার্ট ফিরে যাওয়ার পর চ্যাপম্যান করেন ১৭ বলে ২৮ রান। শেষদিকে ড্যারেল মিচেল (১৪ বলে ২৫) ও মিচেল স্যান্টনার (৮ বলে ১৭) অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৩ বলেই ২৮ রান যোগ করলে অনায়াস জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সংযত শুরু করে আফগানিস্তান। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪৪ রান। এরপরই গুলবদিন নাইব ঝড় তোলেন। ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৫ বলে ৬৩ রান করেন তিনি। তাকে ভালো সঙ্গ দেন সেদিকউল্লাহ অতল (২৪ বলে ২৯) ও দারউইশ রসুলি (১৩ বলে ২০)।
তবে বড় স্কোর গড়েও আফগান বোলাররা চাপ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়েও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আফগানিস্তানকে—আর চেন্নাই সাক্ষী থাকে রেকর্ড ভাঙা ও গড়ার এক ব্যতিক্রমী দিনে।