আজ ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সাথে সাক্ষাৎ করেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ ও সিনিয়র সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান।
নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশব্যাপী হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন অফিসে পুলিশ রেড দিচ্ছে। ঢাকা-১৫ আসনে নারীদের উপর হামলা হচ্ছে বারবার। আমরা আগেই নির্বাচন কমিশনকে এব্যাপারে ব্যববস্থা নিতে বলেছিলাম কিন্তু আমরা দৃশ্যমানা কোনো উন্নতি দেখতে পাচ্ছি না।
তিনি আরও বলেন, পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের এলকায় পুলিশের তৎপরতা একপেশে দেখা যাচ্ছে। সেখানে আজকেও নেতাকর্মীদের উপর হামলা হয়েছে। ১৫ জন আহত হয়েছেন। সেখানকার ওসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। ওসি বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের অফিসে রেড করছে- ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীদের সাথে নিয়ে। এতে প্রমাণিত হয়, ওসি বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আমরা ইসিকে বলেছি আজকের মধ্যে ওই ওসিকে প্রত্যাহার দেখতে চাই। ইসির পক্ষ থেকে ওনারা পদক্ষেপ নেবেন। অন্যথায় কোনো অবস্থাতেই সেখানে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না।
তিনি আরও বলেন, পাবনাতে অনেকগুলো ঘটনা পরপর ঘটেছে। পাবনায় আমাদের জেলা আমীরের ওপর হামলা হয়েছে। এর আগে অফিসে হামলা ও অনেকগুলো মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। গতকালও জামায়াতের নারী কর্মীসহ নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বারবার এসব ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বার বার এসব ঘটছে। আমরা ইসিকে এসব ঘটনার বিস্তারিত বলেছি।
এডভোকেট জুবায়ের বলেন, এসব ঘটনার ব্যাপারে ইসির দ্রুত পদক্ষেপ আশা করি। নির্বাচনের মাত্র তিনদিন বাকী আছে। এর মধ্যে যদি পদক্ষেপগুলো ইসি না নেন- নির্বাচন কখনো গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু হবে না- একপেশে ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি- ভোটের কাজে বের হওয়া মহিলাকর্মীদের হুমকি দেয়া ও নাজেহাল করা হচ্ছে। শারীরিকভাবে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। ঢাকা- ১৫ আসন, বাউফল ও পাবনাসহ বিভিন্ন জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয় নারীসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এডভোকেট জুবায়ের বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা বিভিন্ন অজুহাত খুঁজছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে লাখো বোরকা বানানো হচ্ছে- এমন কাল্পনিক অভিযোগ তারা করছেন। তারা এর মাধ্যমে একটি নাটক করতে চাচ্ছেন। অথচ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে- বাংলাদেশের অধিকাংশ হিযাবধারী ও পর্দানশীল নারীদের ভয়-ভীতি দেখানো, তাদের মধ্যে একটি সংশয় তৈরি করা। আমাদের আরও আশঙ্কা রয়েছে যে, এসব কারণে নারী ভোটাররা নির্বাচনমুখী হতে ভয় পাবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি এ ব্যাপারে ইসির দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্ধেক ভোটার নারী। নারীদের নিরাপত্তা দেয়া, তাদের সম্মান ও সম্ভ্রম ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। অথচ একটি দল বারবার এই কাজটি করে যাচ্ছে। এ সমস্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি আমরা।
জুবায়ের আরও বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বরতদের নিয়মিত তদারকি করতে নির্বাচন কমিশনকে বলেছি আমরা। বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের একটি অংশ একদিকে হেলে পড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করি- এসমস্ত অভিযোগ বার বার আসছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বে থাকাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। যারা হেলে পড়েছেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলেছি আমরা। সামনের কয়েকদিন এরকম আচরণ করলে জনমনে বিভ্রান্তি হবে। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন হওয়া নিয়ে বড় ধরনের অন্তরায় হবে।
তিনি বলেন, আমরা নেতৃবৃন্দের চলাফেরার ব্যবস্থাসহ গাড়ির অনুমোদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। যাতে তারা নির্বাচনের দিনে তারা নিরাপদে চলা ফেরা করতে পারেন। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের চলাফেরা ও গাড়ির বিষয়গুলো যাতে আগেই নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন, দায়িত্ব পালনে যাতে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়, সেব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছি। ইসি জানিয়েছে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনে যতটুকু সম্ভব পদক্ষেপ নেবেন তারা।