কমলনগর (লক্ষ্মীপুর), ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ —
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিজয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। রামগতিতে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মহড়ার অভিযোগে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।
সহিংসতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
শনিবার রাতে রামগতি থানায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চর পোড়াগাছা, রামদয়াল বাজার ও আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুর চর সুজনগ্রাম এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় চড়াও হন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা মালিকদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন।
ইটভাটা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা
চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ছিদ্দিক উল্লাহর ইটভাটায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের মারধর, কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মালিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়া রামদয়াল বাজারে ব্যবসায়ী মনিরের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অস্ত্র মহড়া ও শক্তি প্রদর্শন
একই সময়ে চর আলগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া ও শক্তি প্রদর্শন করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পর রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন।
মামলায় চর রমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী বেলাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহরিয়ার হান্নান, ইউপি সদস্য সুমন উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিরাজ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মোট ২৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, অভিযান চালিয়ে মিরাজ ও রিয়াজ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমপির বক্তব্য
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, “গণমানুষের দল বিএনপি। জননেতা তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—দলের কেউ যদি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকে, তার দলে কোনো স্থান নেই। অপরাধীর পরিচয় সে অপরাধী—তার বিচার আইনের মাধ্যমে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেই ভুক্তভোগীদের পক্ষে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি। রামগতি-কমলনগরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কারও করা হবে।”
জনমনে প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।