তারাগঞ্জ (রংপুর), ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রংপুর-২ আসনের তারাগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানি থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে বিধিবহির্ভূত কর্তনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিককে ‘যা পারেন লেখেন’ বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনে তারাগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪৩টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন ৪৮৮ জন পোলিং অফিসার, ৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২৪৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার। তাদের প্রত্যেকের সম্মানি থেকে ২০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হাই দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মোট প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন।
বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে ১৭ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়, কর ও ট্যাক্স বাবদ এ অর্থ কর্তন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ‘আমার দেশ’-এর প্রতিনিধি এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ইউএনওর কার্যালয়ে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আপনার যা ক্ষমতা আছে লেখেন। আমার বিরুদ্ধে যা পারেন করেন। লোকজন দিয়ে মানববন্ধন করানোর ব্যবস্থা করেন।”
তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে বদরগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা পূর্ণ সম্মানি পেলেও তারাগঞ্জ উপজেলায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নির্বাচনের পর পাঁচ দিন পর মঙ্গলবার কেটে নেওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
কর্তন সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।