ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। বাজার মনিটরিং জোরদার, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ও সুলভমূল্যে পণ্য বিক্রির উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখার চেষ্টা চলছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে এ মাসকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সময় হিসেবে বিবেচনা না করতে এবং দ্রব্যমূল্য যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরিকল্পিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, তিনদিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান কার্ড ও ভাতা কর্মসূচি বহাল থাকলেও নতুন ফ্যামিলি কার্ডের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণেরও বেশি হবে এবং এটি সর্বজনীনভাবে বিতরণ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন রমজানকে সামনে রেখে মজুতদার ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন স্থগিতের প্রচেষ্টা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রপ্তানি ঝুড়ি সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের কঠোর বার্তার পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সারা দেশে বাজার তদারকি জোরদার হয়েছে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইফতার সামগ্রী ও নিত্যপণ্যের মান, মূল্যতালিকা ও পরিবেশ যাচাই করে তিন ব্যবসায়ীকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করে।
হবিগঞ্জ, নীলফামারী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাজধানী ঢাকা, পিরোজপুরের কাউখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কোথাও মূল্যতালিকা যাচাই, কোথাও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও অনিয়মের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।
বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সরকার ১০ লাখ পরিবারকে সুলভমূল্যে প্রোটিন খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচি চালু করেছে। মহাখালীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দুধ, ডিম, মাংস ও মাছ সুলভমূল্যে সরবরাহ করা হবে।
এদিকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) রমজান উপলক্ষে পাঁচটি পণ্য ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে বিক্রি শুরু করেছে। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর বাজারমূল্যের তুলনায় কমদামে বিক্রি হচ্ছে। একজন ভোক্তা নির্ধারিত পরিমাণে এসব পণ্য কিনতে পারছেন। পাশাপাশি ৭০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য নিয়মিত বিক্রিও অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সিনিয়র সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, কঠোর নজরদারি ও ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা করা যায়।
অন্যদিকে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক আব্দুর রহিম খান জানান, দেশে ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ ও ডালসহ নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে রমজানে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাঁদাবাজি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের শুরুতে চাহিদা কিছুটা বেশি থাকলেও কয়েকদিন পর তা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং তখন বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।