ঢাকা | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংক্ষিপ্ত বিরতির পর রাজধানী ঢাকায় আবারও বেড়েছে কিউলেক্স মশার উপদ্রব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
মিরপুর-১২-এর বাসিন্দা সাইফুল আলম গত এক মাস ধরে তীব্র মশার কামড়ে ভুগছেন। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় চলাফেরা করতে না পারায় তিনি সারাদিন মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। “বিশেষ করে রাতে খুব কষ্ট হয়। কখনও কখনও রিপেলেন্টও কাজ করে না,” বলেন তিনি।
পল্লবী, মিরপুর, ইস্কাটন, রমনা, গেন্ডারিয়া, মোহাম্মদপুর, রাজাবাজার, তেজতুরীবাজার, উত্তরা, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাতিরপুল, মগবাজার, পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মান্ডা, দোগাইর, দানিয়া, উত্তরখান ও আদাবর এলাকার বাসিন্দারাও একই অভিযোগ করেছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ড্রেন ও নালায় পানি জমে স্থির হয়ে আছে। এতে জৈব দূষণ বেড়ে লার্ভার খাদ্য তৈরি হচ্ছে এবং কিউলেক্স মশা সহজে ডিম পাড়তে পারছে।
তিনি জানান, চলতি মাসে মশার ঘনত্ব গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি, যা অস্বাভাবিক। শীতের পর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে একসঙ্গে ডিম ফুটে মশার সংখ্যা বাড়ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে মশকনিধন কার্যক্রম কিছুটা শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কীটতত্ত্ববিদ জিএম সাইফুর রহমান বলেন, এ বছর শীতকাল খুব সংক্ষিপ্ত ছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবে মশার সংখ্যা কমেনি। “যা সাধারণত মার্চের শেষে দেখা যায়, তা এ বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি চলে এসেছে,” তিনি সতর্ক করেন। কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শীত তীব্র না হওয়ায় এডিস মশার সংখ্যাও পুরোপুরি কমেনি। এতে ডেঙ্গুর মৌসুম আগেভাগে শুরু হয়ে তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশাত পারভীন জানান, কিউলেক্স দমনে ফগিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে জরিপ চালিয়ে হটস্পট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, নিয়মিত অভিযান চলছে। গত সপ্তাহে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও কার্যক্রম চালানো হবে।