ঢাকা | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বসছে। আগের সংসদের স্পিকার পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার কারান্তরীণ থাকায় অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া ও নতুন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন নিয়ে সাংবিধানিক আলোচনা সামনে এসেছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে আগের সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় অধিবেশনের সূচনা কে করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন মনে করছেন, এ পরিস্থিতিতে কার্যপ্রণালী বিধির ৫ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন।
প্রক্রিয়াগতভাবে, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকার পদে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে সংসদ সচিবালয়ে নোটিশ দেবেন। অন্য একজন সদস্য সেই প্রস্তাব সমর্থন করবেন। প্রস্তাবিত সদস্যের সম্মতিপত্র সংযুক্ত থাকবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটাভুটি হবে; একক প্রার্থী হলে কণ্ঠভোটে নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। সাধারণত স্পিকার নির্বাচনের পর তার সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন শেষে অধিবেশন মুলতবি করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর তাদের সভাপতিত্বেই সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার ও শামসুল হক টুকু ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে নির্বাচিত করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শফিকুর রহমান এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ ইসলাম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হলেই সংসদের সাংবিধানিক কাঠামো পূর্ণতা পাবে এবং এরপর নিয়মিত আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।