অলিউল্লাহ নোমান তার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ভোটের পর থেকে নানা হিসাব-নিকাশ করে মনে হচ্ছে ১১ দলীয় জোটের শরীক দল গুলো নির্বাচনে সীট নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে বাস্তবতা চিন্তা করলে আরো ১৫/২০টা সীট বিজয়ী হওয়া সম্ভব ছিল।
বিজয়ী হওয়ার মত অনেক গুলো আসনে নির্বাচনের একমাস আগে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয় প্রার্থীদের বসিয়ে তুলনামূলক এলাকায় কম জনপ্রিয় প্রার্থী দিয়েছিলেন শরীক দল গুলো।
এক্ষেত্রে জাগপার পলিসি ছিল সঠিক। জাগপার সহ-সভাপতি আল রাশেদ প্রধানের সাথে দেখা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি নির্বাচন করেননি কেন?
জবাবে বললেন, এনসিপি জোটে আসার পর সীটটি ছেড়ে দিতে হয়েছিল সার্জিস আলমকে। তাকে পাশবরতী একটি সিটে অফার করা হয়েছিল। তিনি জানালেন ওই সীটে গিয়ে যখন দেখলেন একজন দীর্ঘদিন থেকে মাঠে আছেন এবং মাঠ গুছিয়েছেন। এলাকায় ভাল একটি অবস্থানও তৈরি করে ফেলেছেন। তখন আর ওই সীটের জন্য নিজেকে উপযুক্ত মনে করলেন না। মনে করলেন অল্প দিনে তাঁকে নতুন করে আবার মাঠ গোছাতে হবে। যিনি আছেন তিনি থাকলেই বরং ভাল করার সম্ভাবনা বেশি। তাই নিজেকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে ধৈর্য্য ধরলেন এবং জোটের পক্ষে সারা দেশে নির্বাচনী সফর করলেন আমীরে জামায়াতের সাথে।
অথচ, অনেক সম্ভাবনাময় সীট ইগ্যু ধরলেন শরীক দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। তারা যাদের জন্য ইগ্যু ধরলেন মাঠে তাদের কোন রকমের অবস্থানই ছিল না। জনপ্রিয় প্রার্থীদের বসিয়ে দিয়ে তুলনামূলক দুর্বল প্রার্থী দিলেন শরীক দল গুলো।
দেশ-জাতি জন্য ইনসাফের লড়াইয়ে সীটের বেলায় বে-ইনসাফ করা হল নিজেদের ভেতরে। এটা আমার ব্যক্তিগত পর্যালোচনা ও অভিমত।
নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিষয় হল এলাকায় প্রার্থীর নিজের অবস্থান ও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকা।
বড় নেতা হতে পারেন অনেকে। কিন্তু এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য অবস্থান নেই। শুধুমাত্র এই কারণেই সম্ভবনাময় আসনেও জামানত হারাতে হয়েছে শেষ বেলায় আসা প্রার্থীদের। এমনও দেখা গেছে, ডাল নেই তলোয়ার নেই প্রার্থীর চারভাগের একভাগ ভোটও পাননি ১১ দলীয় জোট প্রার্থী।
এই বডনেতা প্রার্থীরা নির্বাচন আসলেই জোটের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করেন অমুক আসনটি তার নিজের এলাকা!! একাধিকবার জামানত হারানো নেতাও নিজের এলাকা বলে জোটের কাছে সীট নিতে ইগ্যু ধরেছিলেন এবার! জামানত হারিয়ে এলাকায় আর পাত্তা নেই। এভাবেই নিরবাচনের পর আর খবর থাকে না।