নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব; নতুন প্ল্যাটফর্ম ও দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে
ঢাকা | ০৮ মার্চ ২০২৬
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গঠিত নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে আবারও ঐক্যের আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও সংগঠন নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৃহত্তর ঐক্য গড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন করে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে কিছু সময় বিচ্ছিন্নতা দেখা গেলেও সম্প্রতি তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার পরিমাণ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার ইস্যুকে সামনে রেখে জুলাই শক্তিগুলো আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।
এই আলোচনার মধ্যে রয়েছে—
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো
- পদত্যাগ করা বা নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করা
- বিচ্ছিন্ন থাকা জুলাই শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা
- কিছু সংগঠনের একীভূত হওয়ার উদ্যোগ
তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই দলটির ভেতর থেকে কিছু অংশ বের হয়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। এর মধ্যে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম-এর নেতৃত্বে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠনের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি অংশ আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পৃথকভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এ কারণে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ঐক্যের পথে এগোতে চাইছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিচার ও সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের কাছে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা এই দুই বিষয়ে আন্তরিক, তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে এনসিপি আগ্রহী।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে সংস্কার এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচার প্রশ্নে এনসিপি কোনো ছাড় দেবে না।
এদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের রায়কে অস্বীকার করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, দলটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং পদত্যাগকারী বা নিষ্ক্রিয় নেতাদের দলে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যদি বৃহত্তর ঐক্য দাবি করে, তাহলে অন্যান্য জুলাই শক্তির সঙ্গে যৌথ কর্মসূচির ব্যাপারেও তারা ইতিবাচক থাকবে।
এদিকে এনসিপি থেকে বের হয়ে বামপন্থি মতাদর্শের একটি অংশ নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ) নামে নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। এছাড়া ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’ এবং ‘অলটারনেটিভস’ নামের আরও দুটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার বাস্তবায়ন ইস্যু এবং ক্ষমতাচ্যুত শক্তির পুনরুত্থানের আশঙ্কা—এসব বিষয় সামনে রেখে জুলাই শক্তিগুলো আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।