প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬
শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার জানান, সরকার বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সভায় আলোচনা হয়, কিভাবে দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা ও ভবিষ্যতের লংজিভিটি ডিভিডেন্ড কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা যাবে।
মন্ত্রী জানান, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার করা হবে, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ করা হবে, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় বলা হয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হবে এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে। স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদান করা হবে।
শিক্ষায় বৈষম্য দূরীকরণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা, সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং ডিজিটাল এডু-আইডি বাস্তবায়নের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। মাদ্রাসাশিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আইটি, বিজ্ঞান ও পেশাভিত্তিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণ করা হবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।