কুয়াকাটা (পটুয়াখালী), ২৯ মার্চ ২০২৬
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় উদ্ধার হওয়া দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক পালতোলা নৌকা অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংসের মুখে। পর্যটক ও স্থানীয়রা সরকারের কাছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নৌকা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
২০১২ সালে জেলেদের মাধ্যমে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বালুর নিচে নৌকার একটি অংশ পাওয়া যায়। পরে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রেলওয়ের সহায়তায় এটি উদ্ধার করা হয়। নৌকাটি কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারের সংলগ্ন বেড়িবাঁধের পাশে স্থাপন করা হয়।
প্রায় ৭২ ফুট দৈর্ঘ্য, ২৪ ফুট প্রস্থ এবং ৯০ টন ওজনের নৌকাটি দুই শতাধিক বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি রাখাইন সম্প্রদায়ের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নৌকা। উদ্ধারকালে নৌকাটির সঙ্গে তামার পেরেক, নারিকেলের রসি, ভাঙা মৃৎপাত্র, ধানের চিটা, পাটকাঠি, মাদুরের অংশ ও লোহার শিকলসহ নানা নিদর্শন পাওয়া যায়। এসব সামগ্রী বর্তমানে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত।
তবে উদ্ধারকরণের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও নৌকাটির স্থায়ী সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত অবকাঠামো বা রাত্রিকালীন আলোর ব্যবস্থা নেই, ফলে এটি বৃষ্টি ও রোদে ক্ষয় হচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই নৌকাটি সংরক্ষণ করতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা প্রয়োজন। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. রিয়াদ বলেন, “নৌকাটি দেখতে পেলাম, তবে আরও ভালোভাবে সংরক্ষণ করা উচিত।” অন্য পর্যটক আলিফ খান ও নিপুণ চৌধুরীও নৌকাটিকে ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সরকারী উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছেন।
নৌকাটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মী ফেরদৌস বলেন, পর্যটকদের অর্ধেকই নৌকা দেখতে আসে, কিন্তু পর্যাপ্ত সংরক্ষণ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন। কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্র বংশ ভিক্ষু বলেন, “রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বাহন রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ জরুরি।”
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসী’র সভাপতি হাফিজুর রহমান আকাশও বলেন, একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হলে নৌকাটি সংরক্ষণ সম্ভব হবে। বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়া আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, নৌকাটির সংরক্ষণ ও কুয়াকাটায় আধুনিক জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংরক্ষণ করা হলে কুয়াকাটার উপকূলীয় ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।