মাহির কাইয়ুম
ঢাবি | প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬
প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর মল চত্বর এখন শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি কুকুরের মৃত্যু এবং অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সূর্যসেন হলসংলগ্ন মল চত্বরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে নেমে একটি কুকুর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীটির শরীর কাঁপতে থাকে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাফিল আলম বলেন, তার চোখের সামনে কুকুরটি বৈদ্যুতিক শকে মারা যায় এবং শরীর থেকে ধোঁয়াও উঠছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ওই সময় কেউ পানিতে নামলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
আরেক শিক্ষার্থী ইমরান সায়ের বলেন, কোটি টাকার আলোকসজ্জা এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেও এর ভেতরে ঝুঁকি লুকিয়ে আছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মল চত্বরে বৈদ্যুতিক লাইন ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা অপরিকল্পিতভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমলেই বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুকুর মারা গেছে বলেই প্রশাসনের টনক নড়বে না, মানুষ মারা গেলে হয়তো ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক তারের অপর্যাপ্ত সুরক্ষার কারণে পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু ল্যাম্পপোস্ট চুরি হয়ে যাওয়ায় উন্মুক্ত তার পড়ে আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে মেরামত না করে টেপ দিয়ে জোড়া লাগিয়ে রাখা হয়েছে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মল চত্বর আধুনিকায়নে প্রায় ২১ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। এতে আলোকসজ্জা, ড্রেনেজ, বসার ব্যবস্থা এবং নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর থেকেই নকশার ত্রুটি, পরিবেশগত ক্ষতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লুৎফর রহমান-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. আক্রাম হোসেন বলেন, কিছু লাইট চুরি হয়ে যাওয়ায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঢাবির নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখানে যে কেউ মারা যেতে পারত। তিনি প্রকৌশল বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।