প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের সময় এই পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। মানুষের ভুল এবং অসাবধানতার কারণে ঘটে এমন দুর্ঘটনা কমাতে বিশ্বজুড়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত স্বয়ংক্রিয় গাড়ি।
মানবিক ত্রুটি বনাম প্রযুক্তির নির্ভুলতা
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো মানবিক ত্রুটি—চালকের অসতর্কতা, ক্লান্তি, মোবাইল ব্যবহার, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নেওয়া।
এআইচালিত গাড়ি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। এটি ক্লান্ত হয় না, মনোযোগ হারায় না এবং আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় না। তথ্য, গণনা এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি পূর্বেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
চালকবিহীন গাড়ি কিভাবে কাজ করে
চালকবিহীন গাড়ি সেন্সর, ক্যামেরা, রাডার ও লিডার (LiDAR) ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি গাড়ির চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।
- রাস্তার অবস্থা
- অন্যান্য যানবাহনের অবস্থান
- পথচারীর গতিবিধি
- ট্রাফিক সিগন্যাল
তথ্যগুলো কম্পিউটার সিস্টেমে পাঠানো হয়, যেখানে মেশিন লার্নিং ও ডেটা অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ, লেন পরিবর্তন, ব্রেক বা দিক পরিবর্তন করে।
আন্তর্জাতিক বাস্তবায়ন
গুগল, টেসলা, উবারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা চালাচ্ছে। অনেক শহরে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চালকবিহীন গাড়ি সফলভাবে চলাচল করছে। তবে বাস্তব জীবনের জটিল পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সরাসরি চালকবিহীন গাড়ি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তবে ADAS (Advanced Driver Assistance System) ব্যবহার করে সম্ভাব্য বিপদ শনাক্ত হলে চালককে সতর্ক করা বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক/স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বর্তমান যান চলাচল বিশৃঙ্খল, ট্রাফিক আইন অমান্য, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সহাবস্থান ও অবকাঠামোর ঘাটতি এই প্রযুক্তির প্রয়োগে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
সম্ভাবনা
যদি ধীরে ধীরে স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম, ডিজিটাল সিগন্যালিং এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যায়, তাহলে এআই প্রযুক্তি বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।