প্রকাশ, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কয়েকশ নেত্রী মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় প্রার্থী বাছাইয়ে চাপে পড়েছে দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেত্রী, মহিলা দল ও ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেত্রীদের মনোনয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকা রাখা নেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। আগামী ৭ থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ৬ এপ্রিল কমিশন সভায় তফসিল ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর ২৯৬টি আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেট অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি বিএনপি জোট এবং ১৩টি জামায়াত জোট পেতে পারে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অবদান, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ত্যাগ, নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং তরুণদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ২০০৮ সালের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন—হাসিনা আহমদ, রুমানা আহমেদ, নিলোফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, শাম্মী আক্তার, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, সুলতানা আহমেদ, ইয়াসমিন আরা হক ও শিরীন সুলতানা।
এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও রয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, তাহমিনা জামান শ্রাবণী, শামীম আরা বেগম, রিপা ওয়ালী খান, বীথিকা বিনতে হোসাইন, হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, ব্যারিস্টার সালিমা বেগম আরুণি, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও সামিরা তানজিনা চৌধুরী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীদের মধ্যে শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা এবং ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলিকেও সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে সংক্ষিপ্ত তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় আলোচনা শুরু হবে।