প্রকাশ, ০১ এপ্রিল ২০২৬
রাজ্যে ভোজ্যতেলের সংকটের মধ্যে কিছু কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন খুচরা বিক্রেতারা।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমানো এবং ডিলারদের কমিশন হ্রাসের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তাদের দাবি, এভাবে তারা ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চাইছে।
গত বুধবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দেয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব রাখা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বৈঠক বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
রাজধানী ও মফস্বল বাজারে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, এক-দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে খুব কম, আর পাঁচ লিটারের বোতল কিছু সংখ্যক দোকানেই আছে। মায়ের দোয়া স্টোরের বিক্রেতা ইমাম উদ্দিন বাবলু বলেন, “জ্বালানি তেলের সংকটকে ব্যবহার করে অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়ানো হচ্ছে। কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে, কমিশন হ্রাস করছে এবং ফলে দাম বাড়ছে।”
কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের দোকানি আব্দুর রশিদ বলেন, “এক-দুই লিটারের বোতল বিক্রি করলে এখন কোনো লাভ হয় না, তাই অনেকে বাড়তি দামেও বিক্রি করছেন।” বউবাজারের দোকানি নাফিস জানান, ঈদের পর সংকট আরও তীব্র হয়ে গেছে এবং বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া দুষ্কর।
গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এক লিটার বোতলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন পরিবেশক পর্যায়ে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পাঁচ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯৫০–৯৫৫ টাকা, যেখানে আগে ৯৪০–৯৪৫ টাকায় বিক্রি হতো।
কারওয়ান বাজারে পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯৮–২০০ টাকায় এবং খোলা পাম তেল ১৭০ টাকায়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “সরকারি নজরদারির অভাব ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সক্রিয়তার কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”