প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নেই দাবি করা হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন এখন নিয়মিত দৃশ্য।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশ ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। দেশীয় উৎপাদন অল্প হলেও বৃহত্তর চাহিদা পূরণে আমদানি অপরিহার্য। প্রধান আমদানিকারক দেশের মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে মজুদ আছে: ডিজেল এক লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন, অকটেন সাত হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ৪৪ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন। ডিজেলের গড় মাসিক চাহিদা ১২ হাজার মেট্রিক টন ধরে, এভাবে মজুদ থাকা ডিজেল প্রায় ১১ দিনের মতো চলবে।
তবে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশের স্টোরেজ সক্ষমতা কম হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত মজুদ রাখা সম্ভব নয়। অধ্যাপক ম. তামিম উল্লেখ করেন, “আমরা সাধারণত ৩০–৪০ দিনের বেশি তেল মজুদ করতে পারি না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশে অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ থাকা উচিত।”
মাঠ পর্যায়ে পাম্পগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও সরকারের দাবি, সংকট নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “ডিজেলে কোনো সংকট নেই, বরং পাচারের শঙ্কা থাকতে পারে। আমরা প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করছি।”
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১১৬ জন, ঢাকার ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৩৩০ জন ও অন্যান্য জেলায় শতাধিক কর্মকর্তা পাম্পগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জ্বালানি মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার লিটার তেল উদ্ধার ও জরিমানা কার্যকর করা হয়েছে।