বরিশাল অফিস, ০১ এপ্রিল ২০২৬
বরিশালের চরমোনাই বাৎসরিক মাহফিলে আসা যাত্রীবাহী একটি রিজার্ভ লঞ্চ নদীতে ডুবে গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার দুপুরে চরমোনাই মাহফিল সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে আসা এমভি মানিক-৪ নামের একটি রিজার্ভ লঞ্চ ডুবে যায়। লঞ্চটি প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে মাহফিলে এসেছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জোয়ারের সময় লঞ্চটি কীর্তনখোলা নদীর তীরে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। নদীতে পানি বেশি থাকায় লঞ্চটি তীরের বালুর বস্তার ওপর উঠে যায়। পরে বুধবার দুপুরে ভাটা শুরু হলে নদীর পানি কমতে থাকে। এ সময় লঞ্চটি শক্তভাবে বাঁধা অবস্থায় থাকায় পানি কমে যাওয়ার একপর্যায়ে সেটি কাত হয়ে নদীতে ডুবে যায়।
তবে লঞ্চের যাত্রীরা তখন মাহফিলের ময়দানে অবস্থান করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পরপরই এর স্টাফরা পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল ইউনিটের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বুধবার দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক কে এম সরিয়াতুল্লাহ বলেন, লঞ্চ ডুবির ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে মুসল্লিদের কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জুলফিকার আলী বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিরা যৌথভাবে কাজ করছে। লঞ্চটির অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। প্রয়োজন হলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।