রংপুরে তেল সরবরাহ ঘাটতিতে ভোগান্তি চরমে, কর্মঘণ্টা নষ্ট ও পরিবহন সংকটে জনজীবন ব্যাহত
স্থান : রংপুর
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
রংপুর বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরবরাহ ঘাটতি ও সীমিত সময়ে বিক্রির কারণে অর্ধেকের বেশি পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রংপুর বিভাগে মাস দেড়েক ধরে জ্বালানি তেলের সংকট অব্যাহত রয়েছে, বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে দৈনিক গড়ে ১০ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯ লাখ লিটার। একইভাবে সোয়া ৫ লাখ লিটার পেট্রোলের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে সোয়া ২ লাখ লিটার এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার লিটার অকটেনের বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৮৫ হাজার লিটার।
সরকার নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা এবং শুক্রবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা।
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
রংপুর নগরীর বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। একজন গ্রাহক বাবুল বর্মণ বলেন, সময়সীমার কারণে অফিস ও তেল সংগ্রহ—দুটোই একসঙ্গে করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষক ওবায়েদ ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি বাস্তবসম্মত নয় এবং ভোর থেকে নিয়মিতভাবে তেল সরবরাহ চালু রাখা উচিত।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আব্দুল লতিফ বলেন, প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা শুধু লাইনে দাঁড়াতেই চলে যাচ্ছে, ফলে কাজের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
পাম্প মালিকদের সংকট
রহমান পাম্পের ম্যানেজার মাসুম জানান, পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। পাঁচ-ছয়দিন পরপর ডিপো থেকে সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে।
সালেক পাম্পের ম্যানেজার ওবায়দুল ইসলাম ডাবলু বলেন, একদিন তেল পেলেও পরবর্তী কয়েকদিন পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, একসময় প্রতিদিন ৩৫০টির বেশি পাম্প সচল থাকলেও বর্তমানে অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিজেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও পেট্রোল ও অকটেনে কিছু ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র
- রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়
- পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি
- স্থানীয় প্রশাসন
- মাঠপর্যায়ের ভোক্তা ও ব্যবসায়ী বক্তব্য