২১ ঘণ্টার বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি; হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে অচলাবস্থা
ইসলামাবাদ/ওয়াশিংটন/তেহরান
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠক ভেস্তে গেছে, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি দুই পক্ষই।
প্রতিবেদন
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেডি ভ্যান্সএবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।
বৈঠক শেষে ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দিয়েছে। তবে তেহরান তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো ছিল ‘অযৌক্তিক ও উচ্চাভিলাষী’। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দাবি যুদ্ধক্ষেত্রেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার কালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দেন।
এদিকে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ঘোষণা দেন, ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নৌ অবরোধ জোরদার করা হবে।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার কথা উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র
বিবিসি, আল জাজিরা, আইআরআইবি, এএফপি