স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই পাঁচ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা; প্রস্তুতি, সংগঠন ও রাজনৈতিক কৌশলই মূল লক্ষ্য
ঢাকা
প্রকাশ:১৩ এপ্রিল ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় অনিশ্চিত হলেও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে আগেভাগেই মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্য দলগুলোর নীরবতার মধ্যেই এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন
📌 পটভূমি
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে দ্রুত নির্বাচনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। এই পরিস্থিতিতেই এনসিপি একযোগে পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে রাজনৈতিক আলোচনায় আসে।
📌 প্রার্থী ঘোষণার কৌশল
দলটির নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, এটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ। প্রার্থীদের আগেভাগে মাঠে পরিচিত করা, জনসংযোগ বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করাই প্রধান লক্ষ্য।
একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জামায়াতে ইসলামীর আগাম প্রার্থী ঘোষণার কৌশল সংসদ নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল—সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এনসিপি একই কৌশল নিচ্ছে।
📌 দলীয় সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা
গত ২৯ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: আরিফুল ইসলাম আদীব
- কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: তারিকুল ইসলাম
- রাজশাহী সিটি করপোরেশন: মো. মোবাশ্বের আলী
- সিলেট সিটি করপোরেশন: আবদুর রহমান আফজাল
দলটি জানিয়েছে, বাকি সিটি করপোরেশনগুলোতেও শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
📌 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দলটি অতীতে ১১–দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় এবং ৩০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬টি আসনে জয় পায়। নীতিনির্ধারকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও এটি সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর বড় সুযোগ।
📌 প্রশাসনিক বাস্তবতা
বর্তমানে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
📌 জোট রাজনীতি
এনসিপি এখনো ১১–দলীয় জোটের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। দলটি বলছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী একক বা জোট—দুইভাবেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
🔗 সূত্র
- বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ উদ্ধৃত