বোর্ড ফি আত্মসাতের ঘটনায় অনিশ্চয়তায় পড়লেও শেষ মুহূর্তে প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা
ফেনী
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯২ শিক্ষার্থী অবশেষে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। বোর্ড ফি জমা না হওয়ায় তাদের প্রবেশপত্র না আসায় তৈরি হয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা, তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে সমস্যার সমাধান হয়েছে।
প্রতিবেদন
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীদের বোর্ড ফি জমা দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মোট ৯২ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি তা আত্মসাৎ করেন। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি যাচাই করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেলেও বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা না পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জরুরি সভা করে কোচিংয়ের টাকা থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। পরে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেন।
জেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহযোগিতায় বোর্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবশেষে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত অফিস সহকারী দীর্ঘদিন ধরে দেনাগ্রস্ত ছিলেন এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মিত ছিলেন। এরপরও বিষয়টি যথাসময়ে নজরে না আসায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টাকা জমা না দিয়ে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। পরে বিষয়টি যাচাই করে প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
সূত্র
স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড সূত্র