রংপুর প্রতিনিধি: এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা দেখিয়ে বিএনপি মূলত আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও তারা ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে বদরগঞ্জে এক কর্মীসভায় পৌর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির বর্তমান আচার-আচরণ দেখে মনে হয় না তারা সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন চায় না। তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিএনপি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অনুষ্ঠানে বদরগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা কামরুজ্জামানকে বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এটিএম আজহার বলেন, “আমাদের পথ কঠিন। নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, আসন্ন পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি এলাকায় জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব প্রার্থী দেবে। জনগণের ভালোবাসা অর্জন করে তাদের পাশে থেকে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে জামায়াতের এ নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি। প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিএনপি সেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও সংকটের মুখে পড়বে।
চাঁদাবাজির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিএম আজহার বলেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। কোরবানির পশু পরিবহন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কেও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এর প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণ ভেবেছিল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমবে। কিন্তু বাস্তবে সরকার দলীয় লোকজনই বিভিন্ন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠছে।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে চললে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল গনি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।