নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ২০:২০
বান্দরবানের সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়ন-এর ভালুকিয়া এলাকায় আবারও ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক কৃষিশ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একই এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের পর নতুন এই ঘটনায় সীমান্তবাসীর মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভালুকিয়া এলাকার একটি কলাবাগানে কাজ করার সময় বিস্ফোরণের শিকার হন মো. শফি আলম (৩০)। বিস্ফোরণে তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কলাবাগানে কাজ করার সময় বিস্ফোরণ
স্থানীয় সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) হাতুরানী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৪১ নম্বর মেইন পিলারের প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি কলাবাগানে কাজ করছিলেন শফি আলম। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত শফি আলম নাইক্ষ্যংছড়ির রেজুয়ামতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. হালু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সীমান্তজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কৃষিকাজ, বাগান পরিচর্যা কিংবা পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় তারা অজানা বিপদের আশঙ্কায় থাকেন।
এর আগে গত ২৪ মে একই এলাকার কাছাকাছি স্থানে পরপর দুটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন স্থানীয় আদিবাসী নিহত হন। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সতর্কবার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম কায়রুল আলম বলেন, ঘুমধুমের ভালুকিয়া এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে একজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
বিস্ফোরণের উৎস অনুসন্ধান
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের উৎস, ব্যবহৃত মাইনের ধরন এবং কীভাবে সেটি ওই এলাকায় পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধারাবাহিক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত জরুরি।